জাতীয় অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে রানীর পরিবর্তন হলো না। গতবারের মতো এবারও ট্র্যাকের রানীর মুকুট মাথায় তুললেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দহকলা গ্রামের শিরিন আক্তার।

বঙ্গবন্ধু ৪৪তম জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে নারী এককে ১১.৮০ সেকেন্ড সময় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন শিরিন। জাতীয় ও সামার মিট মিলিয়ে টানা ১১ বার দেশের দ্রুততম মানবী হয়ে নিজের রেকর্ড আরও মজবুত করলেন সাতক্ষীরার শিরিন। ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো দেশের দ্রুততম মানবী হওয়ার পর আর পেছনে তাকাননি শিরিন। এক এক করে মোট ১১ বার জিতেছে মেয়েদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের স্বর্ণ।

গত শুক্রবার ১০০ মিটার ইভেন্টে সবাইকে পেছনে ফেলেন গত বছর জানুয়ারিতে জাতীয় অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে চট্টগ্রামে ঘাসের ট্র্যাকে দৌড় শেষ করেছিলেন ১২.১০ সেকেন্ডে, ঢাকায় ১১.৮০।

তবে দুবারই হ্যান্ডটাইমিংয়ে সময় মাপা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যার কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। দৌড়ের শুরুতে শিরিন পিছিয়ে পড়েন। কিন্তু ৬০-৭০ মিটারের পর থেকে অন্যদের পেছনে ফেলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শিরিন ফিনিশিং মার্কে পৌঁছে যান সবার আগে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শরীফা খাতুন ১২.২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় ও বাংলাদেশ আনসারের কবিতা রায় ১২.৪০ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন।
২০০৭ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তি হন শিরিন আক্তার। এরপর ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক যুব এশিয়ান গেমসের মধ্য দিয়ে। ২০১৪ কমনওয়েলথ গেমস, ২০১৫ সালে এশিয়ান বিচ গেমস, ২০১৬ সালে গৌহাটি এসএ গেমস ও রিও অলিম্পিক গেমসে দেশের হয়ে ট্র্যাকে নামেন শিরিন। সবমিলিয়ে দেশের নারী অ্যাথলেটিক্সের ভরসার অন্য নাম শিরিন আক্তার।

টানা ১১ বার দ্রুততম মানবী হওয়া শিরিন এ রেকর্ড গড়ার ধারাবাহিকতা না থামানোর প্রত্যয় জানিয়েছেন। তিনি নিজেই নিজের রেকর্ড বারবার ভেঙেছেন। সুফিয়া ও লাভলীর টানা সাতবারের রের্কড ভেঙে এবার ১১-তে উন্নীত করেছেনে। বিউটি কীভাবে ১৭ বার দ্রুততম হয়েছিলেন- এ ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই। তবে শিরিনের ইচ্ছা আছে সুস্থ ও ফিট থাকলে তার টানা রেকর্ডটি আরও সমৃদ্ধ করার।

করোনার সময়ে পর্যাপ্ত অনুশীলন করতে পারেননি। তবুও এই আসরের টাইমিং নিয়ে সন্তুষ্ট শিরিন। তবে নিজেকে দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুততম মানবী হিসেবে দেখতে চান তিনি। সামনে বাংলাদেশ গেমস আছে। ওটাতে আরও ভালো টাইমিং করতে চান। ১০০ মিটারে তার ইলেকট্রনিকস টাইমিং ১১.৯৯ সেকেন্ড। এটা বাংলাদেশেরও রেকর্ড (এসএ গেমস, ২০১৬)। তার ইচ্ছা এই টাইমিংকে অতিক্রম করা। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দ্রুততম মানবী হতে চান। এজন্য আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যেই যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন।

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ২০০৭ সালে ভর্তি হয়েছিলেন শিরিন। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বেরিয়েছেন ২০১৪ সালে।

শিরিন বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক চাকরি করছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামী ইতিহাসে অনার্স ও মাস্টার্স পাশ করে ক্রীড়াবিজ্ঞানে মাস্টার্স করছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর মাঝে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০ মাসের বিপিএড কোর্সও করেছেন।

ক্রীড়াবিজ্ঞানে নিয়ে এমএস (মাস্টার্স) শেষ হয়ে গেলে অদূর ভবিষ্যতে তার পিএইচডি করার ইচ্ছা আছে। এই বিষয়ে সর্বোচ্চ পড়াশুনা ও জ্ঞান অর্জন করে তিনি খেলার জগতে থাকতে চান। তিনি খেলার বাইরে যেতে চান না। খেলাধুলা তার অত্যন্ত প্রিয়। দেশের বাইরে কোচিং নিয়ে পড়াশোনা করতেও চান। লেভেল ওয়ান, টু-এই টাইপের যে কোর্সগুলো আছে সেগুলো শেষ করতে চান। আপাতত ইচ্ছা আগামী পাঁচ-ছয় বছর খেলা চালিয়ে যাওয়া। সামনে টোকিও অলিম্পিকে খেলতে চান, সেজন্য তার অনুশীলন শুরু করার ইচ্ছে রয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন